বাংলা
কালো গোলমরিচ জন্মায় ভারতের মালাবার উপকূলে বুনো অবস্থায়, আর পনেরোশো বছর ধরে ইউরোপ এটা পেতে চড়া দাম দিয়েছে। কলম্বাস পশ্চিমে যাত্রা করে লাইন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, ক্যারিবিয়ানে নেমেছিলেন, আর সেখানকার মানুষদের নাম দিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান আর তার লঙ্কাকে বলেছিলেন মরিচ। এরপর সেই লঙ্কা ভারতে গিয়ে রান্নাঘর দখল করে নিয়েছিল।
১৪৯২ সালের ৪ নভেম্বর, কিউবার উপকূলে, পিন্টা জাহাজের ক্যাপ্টেন ক্রিস্টোফার কলম্বাসকে বললেন তিনি দারুচিনি গাছ খুঁজে পেয়েছেন। কলম্বাস দেখতে গেলেন। তাঁর টিকে থাকা লগবইয়ের সারসংক্ষেপে লেখা আছে, তিনি ‘দেখলেন সেগুলো দারুচিনি গাছ নয়।’
তাই তিনি সরাসরি পথ ধরলেন। তিনি কাস্টিল থেকে দারুচিনি আর মরিচের নমুনা এনেছিলেন, আর তীরের মানুষদের তা দেখালেন। লগবই বলছে, তারা তা চিনতে পারল, আর ‘ইশারায় বলল কাছাকাছি অনেক আছে, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে দেখিয়ে।’
সেই নমুনার থলিতে থাকা মরিচ এসেছিল দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতের মালাবার উপকূলের দেশজ একটা লতা থেকে, বর্তমান কেরালায়। রোমান যুগ থেকেই ইউরোপ এর জন্য চড়া দাম দিয়ে আসছিল। কলম্বাস সেখানে পৌঁছানোর একটা ছোট পথ খুঁজছিলেন। দুটো মহাদেশ পথে দাঁড়িয়ে ছিল।
মালাবার উপকূলের একটা লতা
ব্রিটানিকা কালো গোলমরিচকে বলে ‘পরিচিত প্রাচীনতম মশলাগুলোর একটা’ আর এর আদি বাসস্থান বলে মালাবার উপকূল। আসল দারুচিনি, Cinnamomum verum-এর ছাল, দেশজ শ্রীলঙ্কা আর তার পাশের মালাবার উপকূলে।
পর্তুগিজরা যখন ১৪৯৮ সালে শেষমেশ সেখানে পৌঁছাল, ভাস্কো দা গামার বহরের নাম-না-জানা ডায়েরি-লেখক এ নিয়ে স্পষ্ট ছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, কালিকট থেকে ‘সেই মশলা আসে যা পূর্ব আর পশ্চিমে খাওয়া হয়, পর্তুগালে, যেমন বিশ্বের বাকি সব দেশেও।’ শহরটা নিজেই ফলাত ‘আদা আর মরিচ আর দারুচিনি’, যদিও সবচেয়ে ভালো দারুচিনি আসত সিলন থেকে, আট দিনের জলপথ দূরে। ছাল যেখানেই জন্মাক না কেন, ‘কালিকটই এই সব দারুচিনির প্রধান বাজার।’ কালিকটেই আপনি তা কিনতেন।
গাছটা ছিল ভারতীয়, আর ক্রেতা ছিল বাকি সবাই। পনেরোশো বছরের বাণিজ্য চলেছিল এই বন্দোবস্তেই।
রোম দাম দিত সোনায়
তামিল কবিরা এই বাণিজ্য দেখেছিলেন জেটি থেকে। প্রাথমিক তামিল কাব্যের সঙ্গম সংকলনগুলোর একটা আকানানুরুর একটা কবিতা চের বন্দর মুসিরির বর্ণনা দেয়, যাকে গ্রিক আর রোমান লেখকরা বলতেন মুজিরিস: ‘যবনরা তাদের সুন্দর জাহাজ নিয়ে আসে, সোনা বয়ে, আর মরিচ নিয়ে চলে যায়।’ যবন ছিল প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে গ্রিক আর রোমানদের জন্য ব্যবহৃত শব্দ। এক চের প্রধান, নেদুঞ্জেরাল আদান, যবন জাহাজে হামলা চালিয়ে বণিকদের মুক্তিপণের জন্য আটকে রাখতেন বলে কথিত আছে, যা বলে দেয় কার বেশি প্রয়োজন ছিল কার।
রোমে, প্লিনি দ্য এল্ডার এর আকর্ষণ বুঝতে পারতেন না। মরিচ নিয়ে তিনি প্রথম শতাব্দীতে অভিযোগ করেছিলেন, এর মধ্যে বিশেষ কিছুই নেই, শুধু ‘একটা নির্দিষ্ট ঝাঁঝ ছাড়া; আর তবুও এর জন্যই আমরা এটা ভারত থেকে এতদূর নিয়ে আসি!’ তবুও তিনি দামগুলো লিখে রেখেছিলেন: লম্বা মরিচ পাউন্ডপ্রতি পনেরো দিনার, সাদা সাত, কালো চার।
তিনি লিখেছিলেন, যে বর্ষার বাতাসকে তিনি হিপ্পালুস বলেন তার পেছনে চড়ে, লোহিত সাগর থেকে একটা জাহাজ চল্লিশ দিনে পৌঁছাতে পারত ‘ভারতের সবচেয়ে কাছের বাজার, নাম মুজিরিসে’, যদি জলদস্যুদের নিয়ে আপনার আপত্তি না থাকে। তিনি বিলটা নিয়েও অভিযোগ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘কোনো বছরই ভারত আমাদের সাম্রাজ্য থেকে’ একটা বিপুল অঙ্কের চেয়ে কম নিঃশেষ করে না, এমন পণ্যের জন্য যা ‘আমাদের মধ্যে তাদের আসল দামের পুরো একশো গুণে বিক্রি হয়।’
আঠারো শতাব্দী পরে ভারতীয় অর্থনীতিবিদরা ব্রিটেনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলবেন, শুধু টাকাটা এবার উল্টো দিকে বইবে। সেই গল্পটা হল ব্রিটেন কীভাবে ভারতকে নিঃশেষ করেছিল।
একটা জাহাজ, ৫৫২ টন মরিচ
এই বাণিজ্যের সবচেয়ে ভালো একটা একক নথি হল ভিয়েনার জাতীয় গ্রন্থাগারে রাখা একটা প্যাপিরাস, লেখা হয়েছিল দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। এক পাশে আছে আলেকজান্দ্রিয়ায় সম্মত হওয়া, ভারতে যাত্রার জন্য একটা ঋণচুক্তির অংশ। অন্য পাশে করের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা আছে হার্মাপোলন নামের একটা জাহাজে ফিরে আসা পণ্যের।
ইতিহাসবিদ ফেদেরিকো দে রোমানিস, যিনি এর ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যাগুলো পুনর্গঠন করেছেন, হার্মাপোলনের পণ্যভার ধরেন প্রায় ৬৩৫ টন, যার মধ্যে প্রায় ৫৫২ টন ছিল মরিচ। সঙ্গে ছিল মালাবাথ্রন, উপকূলের অন্য প্রধান রপ্তানি পণ্য, আর ১৬৭টা হাতির দাঁত, যার ওজন ৩,২২৮.৫ কিলোগ্রাম। রোমের শুল্ক কর্মকর্তারা সবকিছুর এক-চতুর্থাংশ কর হিসেবে নিয়ে নিতেন, যাকে বলা হত টেটার্টে।
২০০৭ সাল থেকে কেরালা কাউন্সিল ফর হিস্টোরিক্যাল রিসার্চ কোচির প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরে পাত্তানামে খনন চালিয়ে যাচ্ছে। পাঁচটা মরসুমের পর তাদের কাছে ছিল প্রায় ৬,০০০ রোমান অ্যাম্ফোরার টুকরো, মদ আর মাছের সস সাগর পার করে বয়ে নেওয়া মাটির পাত্র, তার কিছু গল থেকে আসা। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের রবার্তা টমবার সবচেয়ে ব্যস্ত বছরগুলোর তারিখ ধরেছেন ‘খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর শেষভাগ আর খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দী।’
২০১১ সালের প্রতিবেদনটা শুকনো কণ্ঠে লক্ষ করেছিল, রোমান মুদ্রা তাদের উপস্থিতি চিহ্নিত করেছিল ‘চমকপ্রদ অনুপস্থিতি দিয়ে।’ হাতি আর ধনুক খোদাই করা প্রাথমিক চের মুদ্রা অবশ্য পাওয়া গিয়েছিল। পাত্তানামই আসল মুজিরিস কিনা তা, প্রত্নতত্ত্ববিদ জয়া মেননের ভাষায়, ‘এখনও একটা অনুমানের বিষয়।’ কিছু পণ্ডিত প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের কোডুঙ্গাল্লুরকে বেশি পছন্দ করেন।
প্রতিটা হাত একটা কাটতি নিত
কোনো ইউরোপীয় জাহাজ পৌঁছানোর অনেক আগে থেকেই ভারত মহাসাগর ছিল একটা ব্যস্ত সমুদ্র; দা গামার পাঁচশো বছর আগে চোল নৌবহর আরব আর চীনের মধ্যকার পথগুলোতে কর বসাচ্ছিল। পনেরো শতক নাগাদ একটা মরিচদানা রিলে দিয়ে ইউরোপে পৌঁছাত, আর দা গামার ডায়েরি-লেখক সেই পথের হদিস রেখেছেন। জাহাজগুলো মশলা কালিকট থেকে জিদ্দায় নিয়ে যেত, যেখানে সুলতানের শুল্ক কর্মকর্তারা অপেক্ষা করত। ছোট নৌকা তা লোহিত সাগর বেয়ে নিয়ে যেত, সিনাই পর্বতের কাছে আবার কর বসানোর জন্য। উট, প্রতিটা চার ক্রুজাদোয় ভাড়া করা, তা দশ দিনে কায়রোতে নিয়ে যেত, যেখানে ‘শুল্ক আবার দেওয়া হয়।’ একটা নীল নদের নৌকা তা রোজেটায় নিয়ে যেত, যেখানে শুল্ক ‘আরও একবার’ দেওয়া হত, আর উট তা এরপর আলেকজান্দ্রিয়ায় নিয়ে যেত। সেখানে ভেনিস আর জেনোয়ার গ্যালিগুলো তা কিনত, আর ডায়েরি-লেখক শুনেছিলেন, সুলতান বছরে ৬,০০,০০০ ক্রুজাদো শুল্ক আদায় করতেন।
ই. জি. রেভেনস্টাইন, যিনি ১৮৯৮ সালে এই ডায়েরিটা অনুবাদ করেছিলেন, তার আলেকজান্দ্রিয়ার দামগুলোকে পাশাপাশি রাখেন পর্তুগিজ লেখক দুয়ার্তে বার্বোসার কালিকটে লিপিবদ্ধ করা দামের সঙ্গে। তাঁর হিসাবে, মরিচের দাম কালিকটে ছিল পাউন্ডপ্রতি প্রায় তিন পেনি আর আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রায় সতেরো পেনি, আর তা ছিল কোনো ভেনিসীয় এটা আবার বিক্রি করার আগেই। ভেনিস আর জেনোয়ার হাতে ছিল, ব্রিটানিকার ভাষায়, ইউরোপে বণ্টনের একটা ‘প্রায় একচেটিয়া অধিকার’, আর সেই দখলদারিই অন্যদের পূর্বমুখী একটা সমুদ্রপথ খুঁজতে ঠেলে দিয়েছিল।
কনস্টান্টিনোপল পথ বন্ধ করেনি
আপনাকে হয়তো একটা পরিপাটি গল্প শেখানো হয়েছে, যেখানে ১৪৫৩ সালে অটোমানদের কনস্টান্টিনোপল দখল মশলার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল আর ইউরোপকে সমুদ্রে ঠেলে দিয়েছিল। ইতিহাসবিদরা এতে দ্বিমত পোষণ করেন। ১৯১৫ সালে ইতিহাসবিদ এ. এইচ. লাইবিয়ার যুক্তি দিয়েছিলেন, ১৪৫৩ সালের পর পশ্চিমা মশলার দামে ‘কোনো লক্ষণীয় স্থায়ী বৃদ্ধি’ দেখা যায়নি, আর মিশর আর সিরিয়ার মধ্য দিয়ে বাণিজ্য ‘১৫০২ সাল পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ’ চলেছিল। যা সেই পথটা খালি করে দিয়েছিল তা হল পর্তুগিজদের উৎস থেকেই মরিচ কেনা। লাইবিয়ার লিখেছিলেন, ‘ভেনিসের গ্যালিগুলো আলেকজান্দ্রিয়া আর বৈরুতে খুব সামান্যই মশলা পেয়েছিল; ১৫০৪ সালে তারা একেবারেই কিছু পায়নি।‘
পূর্বে পৌঁছাতে পশ্চিমে যাত্রা
কলম্বাসের পরিকল্পনা ছিল একটা শর্টকাট। চিকিৎসক পাওলো তোসকানেল্লি, শুধু পরবর্তী কপিতে টিকে থাকা একটা চিঠিতে, তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি মশলা কোথায় জন্মায় সেই পথ খুঁজে পাওয়ার আপনার মহান আর প্রবল ইচ্ছা বুঝতে পারছি।’ তিনি একটা মানচিত্রসহ একটা আগের চিঠি সংযুক্ত করেছিলেন, যাতে পাঠককে অবাক না হতে অনুরোধ করা হয়েছিল ‘যদি আমি মশলা যেখানে আছে সেই অংশগুলোকে পশ্চিম বলি, যখন সাধারণত তাদের পূর্ব বলা হয়।’
কলম্বাসের জার্নালের ভূমিকায় বলা আছে ফার্দিনান্দ আর ইসাবেলা তাঁকে পাঠিয়েছিলেন ‘ভারতের সেই অংশগুলোতে’, নির্দেশ দিয়ে যে তাঁর ‘পূর্বদিকে স্থলপথে যাওয়া উচিত নয়, যেমনটা প্রথা ছিল, বরং তাঁর পশ্চিমপথে যাওয়া উচিত।’ তিনি রওনা দিলেন ১৪৯২ সালের ৩ আগস্ট শুক্রবার। ১২ অক্টোবর ভোর দুইটায় তাঁর নাবিকরা একটা দ্বীপ দেখতে পেলেন, যাকে সেখানকার মানুষ বলত গুয়ানাহানি।
জার্নালটা নিজেই হারিয়ে গেছে। যা টিকে আছে তা হল ফ্রায়ার বার্তোলোমে দে লাস কাসাসের একটা দীর্ঘ সারসংক্ষেপ, যাতে অনেক অংশ অ্যাডমিরালের নিজের ভাষায় কপি করা। ২৩ অক্টোবর নাগাদ সেই কথাগুলো শোনায় যেন এক মানুষ তালিকা ছাড়াই কেনাকাটা করছেন। তিনি লিখেছিলেন, এই ভূমি হবে ‘মশলায় সমৃদ্ধ। এই পণ্যগুলো সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত কোনো জ্ঞান নেই, এটাই আমার সবচেয়ে বড় দুঃখের কারণ।‘
যে মরিচ আসলে মরিচ ছিল না
জার্নালে কলম্বাসের দেখা মানুষদের প্রথম স্থলাবতরণ থেকেই ‘ইন্ডিয়ান’ বলা হয়েছে। ব্রিটানিকা এই নামের উৎস খুঁজে পায় তাঁর সেই ভুল বিশ্বাসে যে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় পৌঁছেছেন, আর সেই কারণেই তিনি তাদের বলেছিলেন ‘ইন্ডিওস।’
দারুচিনি গাছের কিছুই হল না, কিন্তু ১৪৯৩ সালের ১৫ জানুয়ারি, হিস্পানিওলায়, লগবই আরও ভালো কিছুর খবর দেয়। এতে লেখা আছে, ‘প্রচুর আজিও আছে, যা তাদের মরিচ, যা মরিচের চেয়েও বেশি মূল্যবান, আর সব মানুষ আর কিছুই খায় না, এটা খুব স্বাস্থ্যকর বলে।’ অ্যাডমিরাল হিসাব করেছিলেন, বছরে পঞ্চাশটা ক্যারাভেল এটা দিয়ে বোঝাই করা যেতে পারে।
আজি ছিল লঙ্কা। কালো গোলমরিচের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই, কিন্তু কলম্বাস ভেবেছিলেন এটা ভারতের সেই মশলার মতো, তাই লঙ্কা পেয়ে গেল মরিচের নাম, আর তা ধরেও রাখল।
খ্রিস্টান আর মশলা
এদিকে পর্তুগিজরা আফ্রিকা ঘুরে লম্বা পথ ধরল। বর্তমান কেনিয়ার মালিন্দিতে, ভাস্কো দা গামা একজন গুজরাটি নাবিককে সঙ্গে নিলেন যিনি কালিকটের পথ চিনতেন। তেইশ দিন পরে পশ্চিমঘাট দৃশ্যমান হল, আর ১৪৯৮ সালের ২০ মে বহরটা কালিকটের সামনে নোঙর ফেলল, তখনকার দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র।
পরদিন দা গামা তাঁর এক দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে তীরে পাঠালেন। তাকে নিয়ে যাওয়া হল তিউনিসের দুই বণিকের কাছে, যারা কাস্টিলীয় আর জেনোয়ীয় ভাষায় কথা বলত, আর যাদের প্রথম কথা ছিল, ‘শয়তান তোকে নিয়ে যাক! তোকে এখানে কী নিয়ে এসেছে?’ সেই অপরাধী ব্যাখ্যা করল তারা এসেছে ‘খ্রিস্টান আর মশলার খোঁজে।’ তিউনিসীয়রা স্বাভাবিক প্রশ্নটাই করল: ‘কাস্টিলের রাজা, ফ্রান্সের রাজা, বা ভেনিসের সিনিয়োরিয়া কেন এখানে পাঠায় না?’
খ্রিস্টানদের খুঁজে পেতে একটু সময় লাগল। পর্তুগিজরা ঠিক করে নিয়েছিল কালিকটের হিন্দুরা খ্রিস্টান, আর তাদের নিয়ে যাওয়া হল ডায়েরি-লেখক যাকে বলেন ‘একটা বড় গির্জা’-য়। ভেতরে একটা মূর্তি ছিল, যাকে ‘তারা বলল আওয়ার লেডির প্রতিমূর্তি’, আর দা গামা তার সামনে প্রার্থনা করলেন। দেয়ালে আঁকা সাধুদের ‘মুখ থেকে এক ইঞ্চি বেরিয়ে থাকা দাঁত, আর চার বা পাঁচটা হাত’ ছিল। রেভেনস্টাইনের টীকা শুকনো: ‘এই ‘গির্জা’ আসলে ছিল একটা প্যাগোডা বা মন্দির।‘
জামোরিন প্রভাবিত হননি
জামোরিন, পর্তুগিজরা যেভাবে কালিকটের হিন্দু রাজার উপাধি লিখতেন, দা গামাকে গ্রহণ করলেন সবুজ ভেলভেটে মোড়া একটা কেদারায় হেলান দিয়ে, হাতের কাছে একটা সোনার থুতুদানি নিয়ে। এরপর দা গামা তাঁর উপহারগুলো প্রস্তুত করলেন: ‘বারো টুকরো ল্যাম্বেল কাপড়, চারটা লাল ফণা, ছয়টা টুপি, চার গুচ্ছ প্রবাল, ছয়টা হাত-ধোয়া গামলাসহ একটা বাক্স, চিনির একটা বাক্স, দুই পিপে তেল, আর দুই পিপে মধু।’
রাজার এজেন্ট আর আরেকজন কর্মকর্তা ‘এটা দেখে হেসে ফেললেন।’ তারা দা গামাকে বলল, ‘মক্কার বা ভারতের অন্য যেকোনো অংশের সবচেয়ে গরিব বণিকও এর চেয়ে বেশি দিত’, আর একজন রাজার জন্য উপহার সোনায় হওয়া উচিত।
তবুও জামোরিন লিসবনে একটা তালপাতার চিঠি পাঠালেন। তাতে লেখা ছিল, ‘আমার দেশ দারুচিনি, লবঙ্গ, আদা, মরিচ, আর মূল্যবান পাথরে সমৃদ্ধ। এর বিনিময়ে আমি তোমার কাছে যা চাই তা হল সোনা, রুপা, প্রবাল আর লাল কাপড়।’ এটা পড়লে মনে হয় যেন একটা দামের তালিকা।
দা গামার ১৭০ জন লোকের মধ্যে ৫৫ জন বাড়ি ফিরেছিল। তিনি ১৫০২ সালে একটা বড় বহর নিয়ে ফিরে এলেন, কালিকটে বোমাবর্ষণ করলেন, আর ৩৮ জন জিম্মিকে হত্যা করলেন।
যে মরিচ ফিরতি পথ ধরেছিল
হিস্পানিওলার আজি একই জায়গায় থেকে যায়নি। ডাম্বার্টন ওকস প্ল্যান্ট হিউম্যানিটিজ ইনিশিয়েটিভ অনুযায়ী, পর্তুগিজ জাহাজ লঙ্কা ভারতে নিয়ে আসে প্রায় ১৫৪২ সালে, আর এর একটা প্রাথমিক নাম ছিল ‘পের্নামবুকো মরিচ’, ব্রাজিলের পর্তুগিজ উপনিবেশের নামে।
ভারতের ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ মন্ত্রণালয় এখন দেশটিকে বর্ণনা করে ‘বিশ্বে লঙ্কার সবচেয়ে বড় উৎপাদক, ভোক্তা আর রপ্তানিকারক’ হিসেবে, যা বিশ্বব্যাপী লঙ্কা বাণিজ্যের প্রায় অর্ধেক সামলায়, এমন একটা ফসল যা দেশের কোথাও ছিলই না, যতক্ষণ না একটা পর্তুগিজ জাহাজ তা ব্রাজিল থেকে নিয়ে এল।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Encyclopaedia Britannica: Black pepper
- Encyclopaedia Britannica: Cinnamon
- Encyclopaedia Britannica: Chera dynasty
- Jaya Menon, Unearthing Pattanam, Sahapedia (with Vaidehi Herbert's translation of Akananuru 149)
- Pliny the Elder, Natural History 6.26, trans. Bostock and Riley (Perseus Digital Library)
- Pliny the Elder, Natural History 12.14, the pepper tree, trans. Bostock and Riley (Perseus Digital Library)
- Federico De Romanis, Ivory from Muziris, ISAW Papers 8 (2014), New York University
- Bryn Mawr Classical Review 2020.11.32: De Romanis, The Indo-Roman Pepper Trade and the Muziris Papyrus
- Kerala Council for Historical Research: Pattanam Excavations 2011, Fifth Season Field Report
- A. H. Lybyer, The Ottoman Turks and the Routes of Oriental Trade, English Historical Review (1915)
- The Journal of Christopher Columbus, trans. Clements R. Markham, Hakluyt Society (1893)
- Encyclopaedia Britannica: Why Are Native Americans Called Indians?
- A Journal of the First Voyage of Vasco da Gama, 1497 to 1499, trans. E. G. Ravenstein, Hakluyt Society (1898)
- Encyclopaedia Britannica: Vasco da Gama
- JSTOR Daily: Plant of the Month, Chili Pepper (Dumbarton Oaks Plant Humanities Initiative)
- Ministry of Food Processing Industries, Government of India: PMFME newsletter, chilli special
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।